Business Overview of Daraz Online Shopping
Company: Daraz Bangladesh Ltd.
Parent Company: Daraz Group (a wholly-owned subsidiary of Alibaba Group)
Launch Year in BD: 2015
Industry: E-commerce, Technology, Online Shop
Website: www.daraz.com.bd
বাংলাদেশের সবার জন্য অনলাইনে কেনাকাটা সহজ ও আনন্দদায়ক করা। এজন্য দারাজ বিস্তৃত মানসম্পন্ন পণ্য, সাশ্রয়ী দাম এবং সুবিধাজনক অভিজ্ঞতা প্রদান করে। লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশিদের জন্য শীর্ষ অনলাইন শপিং গন্তব্য হওয়া এবং দেশের ব্যবসার প্রধান প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হয়ে ওঠা।
২০১৫ সাল থেকে দারাজ তাদের ব্যবসার পরিসর বাড়িয়েছে, নতুন পণ্য ক্যাটাগরি যুক্ত করেছে এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে দারাজ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করছে।
দারাজ বাংলাদেশ দেশের সব ৬৪টি জেলায় সেবা প্রদান করে। তাদের লজিস্টিক নেটওয়ার্ক এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের মতো বড় শহর ছাড়াও ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় পণ্য পৌঁছে দেওয়া যায়।
দারাজের মূল পণ্য ও সেবা সমুহ
দারাজ একটি হাইব্রিড মার্কেটপ্লেস ও রিটেইলার হিসেবে কাজ করে।
অনলাইন মার্কেটপ্লেস: দেশসেরা প্ল্যাটফর্ম যেখানে হাজারো বিক্রেতা ও কোটি কোটি ক্রেতার সংযোগ ঘটে।
পণ্যসমূহের ক্যাটাগরী: দারাজের পন্য সামগ্রী নানান ক্যাটাগরিতে বিধ্যমান, যেমন—
ইলেকট্রনিক্স: (স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, হোম অ্যাপ্লায়েন্স)
ফ্যাশন: (পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের পোশাক, জুতো, অ্যাকসেসরিজ)
হোম ও লাইফস্টাইল: (ফার্নিচার, রান্নাঘরের সামগ্রী, সাজসজ্জা)
হেলথ ও বিউটি: (কসমেটিকস, ব্যক্তিগত যত্ন, ভিটামিন)
মুদিখানা: (প্যাকেটজাত খাবার, পানীয়, গৃহস্থালী সামগ্রী)
দারাজ মল: একটি বিশেষ সেকশন যেখানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য পাওয়া যায়, যা ১০০% আসল ও মানসম্মত। এছাড়া, দারাজ মলের বিশেষত্ব হচ্ছে, দারাজ মলের store গুলো থেকে যেকোন প্রোডাক্ট নিশ্চিন্তে ক্রয় করতে পারেন। এই প্রোডাক্টগুলো মূলত দারাজ নিজেরাই authenticity check করে, তারপরে sell করে। এছাড়াও, অনেক সময় দেখা যায়, দারাজ মলের বেশ কিছু পণ্য দারাজের নিজস্ব warehouse-এ আগে থেকেই stock থাকে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, দারাজ মলের ক্ষেত্রে আপনি যদি কোন পণ্য “রিটার্ন” বা ফেরত পাঠাতে চান সেক্ষেত্রে চৌদ্দ দিন সময় পাচ্ছেন। দারাজ মল ছাড়াও অন্যান্য লোকাল শপগুলো থেকে কোন প্রোডাক্ট কিনে পরবর্তীতে রিটার্ন করতে চাইলে, সেক্ষেত্রে আপনারা সাত দিন সময় পাবেন।
দারাজ এক্সপ্রেস (DEX): এটি দারাজের নিজস্ব লজিস্টিক সার্ভিস, যা দেশের সর্বত্র দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি নিশ্চিত করে। ডেক্সের মাধ্যমে অন্যান্য কুরিয়ারের চেয়ে দ্রুত ডেলিভারি পাওয়া যায়।
পেমেন্ট সল্যুশন: একাধিক পেমেন্ট অপশন যেমন ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD), মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক কার্ড, এবং দারাজ ওয়ালেট। অর্থাৎ, দারাজে আপনি প্রি পেমেন্ট ছাড়াও ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।সম্প্রতি, তারা ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্ষেত্রে দশ টাকা অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করেছে।ক্যাশ অন ডেলিভারির ক্ষেত্রে , পণ্য হাতে পাওয়ার পর টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।
রিটার্ন সুবিধাঃ
দারাজ কাস্টমারদের সুবিধার্থে রিটার্ন সুবিধা প্রদান করে থাকে। দারাজে রিটার্ন করা মূলত সহজ ব্যাপার। রিটার্নের ক্ষেত্রে, দারাজের লোকাল কোনো শপ থেকে প্রোডাক্ট কেনার পর রিটার্ন করতে চাইলে সাত দিন সময় থাকে। এছাড়া, দারাজ মলের কোনো শপ থেকে প্রোডাক্ট কিনে পরবর্তীতে রিটার্ন করতে চাইলে, সেক্ষেত্রে আপনাদের চৌদ্দ দিন সময় পাওয়া যায়।
ভ্যালু-অ্যাডেড সার্ভিসেস: দারাজ কিছু অতিরিক্ত সেবা দিয়ে থাকে, যেমন—হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ইনস্টলেশন, ওয়ারেন্টি প্রোগ্রাম (Daraz Care), এবং সহজ রিটার্ন পলিসি, যা গ্রাহকের আস্থা গড়ে তোলে। এছাড়াও, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে দারাজ EMI বা কিস্তি সুবিধা দিয়ে থাকে, যার মাধ্যমে গ্রাহক বিভিন্ন প্রোডাক্ট ক্রয় করতে পারেন।
ক্যাম্পেইনঃ দারাজ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন লঞ্চ করে থাকে। তারা মূলত বিভিন্ন উপলক্ষে, যেমন বিজয় দিবস, ভালোবাসা দিবস, Black Friday, ১১.১১, এবং এছাড়াও year-end sale সহ বিভিন্ন ধরনের উৎসব উপলক্ষে ক্যাম্পেইন দিয়ে থাকে। এসব ক্যাম্পেইনে রেগুলার মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। ডিসকাউন্টের পাশাপাশি বিভিন্ন পেমেন্ট মেথডের মাধ্যমে পেমেন্ট করার মাধ্যমেও আরও এক্সট্রা কিছু ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়।
কাস্টমার সার্ভিসঃ
দারাজের গ্রাহক সেবা সম্পর্কে বলা যায়, দারাজের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস সবসময়ই সেরা। দারাজের অ্যাপের মাধ্যমে customer service agent-এর সাথে চ্যাটিং করা যায়। এছাড়া দারাজের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে যেকোনো সমস্যার কথা দারাজকে জানিয়ে সমাধান পাওয়া যায়। Email-এর মাধ্যমেও তারা customers-এর সমস্যার সমাধান করে থাকে।কোন বিষয়ে কোন সমস্যা হলে তাদেরকে জানালে, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেটা সমাধান করার চেষ্টা করে। এদিক থেকে তারা অন্যদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে।
দারাজের কিছু অসুবিধা
দারাজে কেনাকাটার বেশ কিছু সুবিধা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অসুবিধাও রয়েছে। দারাজের কিছু অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নিনঃ
দারাজ প্রথমদিকে প্রায় প্রতি দুই-তিন মাস পরপর ক্যাম্পেইন লঞ্চ করত, যেখানে কাস্টমাররা রেগুলার দাম থেকে মোটামুটি অনেকটাই ডিসকাউন্টে কেনাকাটা করতে পারত। সময়য়ের সাথে সাথে দারাজ অফার এবং ডিস্কাউন্ট কমানো শুরু করল। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যায় যে, বিগত দিনগুলোতে দারাজ মাঝে মাঝে ফ্রি ডেলিভারির সুবিধা দিত। তবে, বর্তমানে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা নেই বললেই চলে। এ ছাড়া দারাজ ডেক্স স্টেশন যা বিগত সময়ে দেশের প্রায় সব জেলায় ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমান সময়ে দারাজের হাবগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব শহরে হাব সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।এছাড়া, দারাজ থেকে ছোট কোনো প্রোডাক্ট কিনতে চাইলেও দারাজ হাব বা ডেক্স স্টেশন সিলেক্ট করা যায় না। এক্ষেত্রে কাস্টমারদেরকে গুনতে হয় অতিরিক্ত ডেলিভারি চার্জ, আর ডেলিভারি চার্জ আগের তুলনায় এখন অনেকটাই বেশি।
কোম্পানির লক্ষ্য
২০৩০ সালের মধ্যে ৫ কোটি মানুষকে সেবা প্রদানকারী দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ই-কমার্স ব্রান্ড হওয়া।
কোম্পানির উদ্দেশ্য
দেশের সর্বত্র সাধারন ব্যবসার শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের এবং অর্থনিতীর উন্নতি করা।
দারাজ সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য
দারাজের সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধা থাকলেও, দারাজ প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে সুলভ মূল্যে কাস্টমারদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে।বাংলাদেশের সব অনলাইন শপিং-এর মধ্যে দারাজই এখন সবার সেরা। তারা তিনটি বিষয়ে সবার থেকে আলাদা – সবার আগে মার্কেটে আসা, আলিবাবার টেকনোলজি দারাজে ইনপুট করা, আর দেশের বাজার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা। এই সুবিধাগুলো দিয়েই তারা একটি সহজ ও সম্পূর্ণ অনলাইন শপিং সিস্টেম বানিয়েছে। দারাজ এখন শুধু একটি ই-কমার্স সাইট নয়; তারা বিক্রেতা এবং ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে প্রতিনিয়ত সামনে নিয়ে যাচ্ছে।